চর্যাপদের রচয়িতাদের ধর্মমত সম্পর্কে আপনার ধারণা কি?

চর্যাপদ লেখা হয়েছে সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দির মধ্যে। এই সময়ে বাংলায় পাল রাজাদের রাজত্ব ছিল। পাল রাজারা ছিলেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। আমরা জানি চর্যাপদের রচয়তারা ছিলেন বৌদ্ধ সহজিয়া ধর্মমতের অনুসারী। সাহিত্যের ক্ষেত্রে ধর্মমতের ভিত্তিতে বৈষম্য তৈরি করাটা অপরাধ, কিন্তু ধর্মের ভূমিকা স্বীকার করাটা অপরাধ না। লেখক বা, কবি নির্দিষ্ট ধর্মমতের অনুসারী হলে তার লেখায় সেটি উঠে আসে, তবে সাহিত্য মাণ কবি-সাহিত্যিকদের এইসব মতের উপর নির্ভর করে না।

পাল রাজবংশের পর সেন রাজবংশের শাসন শুরু হয়। সেন রাজারা রাজধর্ম হিসেবে হিন্দু ধর্মের প্রচলন করেন। অনেকে মনে করেন এই সময়ে হিন্দু রাজাদের কেউ ধর্মের মাঝে জাতপাতের ধারণা প্রচলন করেছেন। এই সময়ে চর্যাপদের রচয়িতারা জীবন বাচাতে পালিয়ে নেপালে যান। এই কারণেই মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগারে বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন খুজে পান। তিনি ‘ডাকার্ণব’ ও ‘দোহাকোষ’ ও খুজে পেয়েছিলেন। এই তিনটি বই ১৯১৬ সালে ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা’ নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত হয়।
আরো পড়ুন-

  1. চর্যাপদের পদকর্তাদের নাম কি?
  2. চর্যাপদে কিভাবে নিম্নবর্গীয় মানুষের সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়?

বৌদ্ধ সহজিয়ারা ছিলেন আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলা মানুষ, তারা লিখতেনও নিজেদের ভাষায়। উচু শ্রেণীর লেখার ভাষায় তারা লিখতেন না বলেই আমরা আজকে বাংলা ভাষা পেয়েছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *